অনিদিষ্টকালের ধর্মঘটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 08 Feb, 2026
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের ডাকা অনিদিষ্টকালের ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল কার্যক্রম। বন্দর থেকে সব ধরণের পণ্য হ্যান্ডেলিং, বন্দর জেটি ও বর্হি:নোঙ্গরে মাদার ভ্যাসেল থেকে থেকে পণ্য উঠা-নামা সব কিছুই বন্ধ রয়েছে।
তবে, বন্দর চেয়ারম্যানের দাবি সব কিছু স্বাভাবিক আছে।
এদিকে, আন্দোলনকারী দু’শ্রমিক নেতাকে আটকের অভিযোগ করেছে আন্দোলনকারী শ্রমিক সংগঠনগুলি। এ অবস্থায় দেশের অর্থনীতি গতিশীল রাখার স্বার্থে সমস্যা সমাধানের তাদিগ দিয়েছেন বন্দর ব্যবহারী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা।
আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়াল্ডকে ইজারা দেয়া এবং আন্দোলনে অংশ নেয়া শ্রমিকনেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থাগ্রহনের প্রতিবাদের রোববার সকাল থেকে অনিদিষ্টকালের এই ধর্মঘটের ডাক দেয় চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারী থেকে টানা ৬ দিন ৮ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করে। দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়ে দেশের আমদানী- রফতানী বানিজ্যের প্রধান কেন্দ্রে বিন্দু চট্টগ্রাম বন্দর কার্যক্রমে।
রোববার পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে খালাসের অপেক্ষায় ছিল ৫৪হাজার ৬৫৪ টিইইউএস কন্টেইনার। এছাড়া ১৯ বেসরকারী অফ ডকে আছে আরো অন্তত: ২০ হাজারের বেশি কন্টেইনার।
এছাড়া বিভিন্ন জেটি পণ্য খালাসে অপেক্ষমান আছে পণ্যবাহী বিভিন্ন জাহাজ। ধর্মঘটের কারণে বন্ধ রয়েছে রফতানী পণ্য বোঝাই বিভিন্ন জাহাজে শিপমেন্টও। ফলে আমদানী-রফতানী পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা বড়ধরনের ক্ষতির আশংকা করছেন।
অনিদিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে বন্দরের অভ্যন্তরে কোন পণ্যবাহী যানবাহন প্রবেশ করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্দরের বিভিন্ন গেইটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্তক অবস্থানে রাখা হয়। ধর্মঘটের কারণে বন্দর জেটি থেকে ১২টি জাহাজ থেকে পণ্যখালাস বন্ধ রয়েছে। বর্হিনোঙ্গরে থাকা ৫০টির বেশি জাহাজেও পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে গেছে। বন্দর ইয়ার্ডে তৈরী হয়েছে কন্টেইনার জট।
এদিকে আবুল কালাম আযাদ ও শামসুমিয়া টুকু নামে আন্দোলনরত দুই শ্রমিক নেতাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়ার অভিযোগ করেছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। বন্দরে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বন্দর চেয়ারম্যানকে দায়ি করে তাকে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের হুমায়ুন কবির ।
এদিকে দুপুরে বন্দর ভবন চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসমএম মনিরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়াল্ডের সাথে আলোচনা চলমান আছে। দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই চুক্তি হবে বলে জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, বন্দরকে হাইজ্যাক করে জনগণকে জিম্মি করে কিছু বিপথগামী কর্মচারী এই পথ বেছে নিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা; আমাদের আনুগত্য থাকবে রাষ্ট্রের প্রতি। বন্দর যে আইনে চলে, সেই আইনের প্রতি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কেউ যদি বিপথগামী হয়ে অন্য কারো আনুগত্য বেছে নেয়, সেটা কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।”
বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা শেষ হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “নেগোসিয়েশন এখনো শেষ হয়নি।”
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, “সকাল থেকেই আমাদের ধর্মঘট চলছে, কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে শতভাগ সমর্থন দিয়ে কাজে যোগ দেননি।”
আন্দোলন দমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে আমাদের দুইজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়েছে বলে খবর পেয়েছি।”
এদিকে বন্দর নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান করা না গেলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক প্রভাব পড়বে মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ।
এর আগে টানা ৬দিন কর্মবিরতির পর বৃহস্পতিবার নৌপরিবহণ উপদেষ্টার সাথে বৈঠকের পর শর্ত সাপেক্ষে দু’দিনের জন্য কর্মসুচি স্থগিত করে আন্দোলনরত শ্রমিকরা।
ডিপি ওয়াল্ডকে এনসিটি ইজারা দেয়া এবং আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমুলক ব্যবস্থা বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসায় রোববার সকাল থেকে অনিদিষ্টকালের ধর্মঘট আহবান করে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদ।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

